মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে’র শ্রীনগরে ঠিকাদারের খামখেয়ালীর কারণে রাস্তার কাজ শেষ হয়নি  মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির  আশায় কাটলো ২৭ বছর মুন্সীগঞ্জে ভোলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন আবুল খায়ের স্টিলের উদ্যোগে টঙ্গীবাড়ী’তে গৃহনির্মাণ কর্মশালা টঙ্গীবাড়ীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত সিরাজদিখানে’র ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রাস্তার উপর টানা অবৈধ ড্রেজারের পাইপ অপসারণ ধলেশ্বরী নদী’র তীর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নৌ পুলিশের শ্রীনগরে বিধবা এক নারীর সাথে ইউনিয়ন বিএনপি নেতার অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস শ্রীনগরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড 
নোটিশ

মুন্সীগঞ্জ সংবাদ - প্রকাশক ও সম্পাদক - মোহাম্মদ আলী রুবেল    +৯৭১৫৫৭৭৪৯৬৬৮ - সত্যের পথে নির্ভীক মোরা - আমরা সদাসর্বদা সত্য প্রচার করি

 

মিরকাদিম পৌরসভার নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

মুন্সীগঞ্জ সংবাদ ডেক্স / ৯২৪ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২১

মো: তুষার আহাম্মেদ : ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ইতিহাস ঐতিহ্যেরসহ অর্থনৈতিক সাবলম্বী অঞ্চল মিরকাদিম পৌরসভা। জেলা সদরে আরেকটি পৌরসভা থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের আয় ও কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রিকাবীবাজার ইউনিয়ন পরিষদকে শহর এলাকা ঘোষণা   করেন এবং ‘‘মিরকাদিম পৌরসভা’’ হিসেবে তার কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মিরকাদিম পৌরসভাকে “গ”হতে “খ”শ্রেনীতে উন্নীত করে এবং ২০১৩ সালের ১০ মার্চ “খ” শ্রেনী থেকে “ক” শ্রেনী  উন্নীত হয়।

১০ দশমিক ৩২ বর্গকিলোমিটার এই মিরকাদিম পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। যেখানে প্রায় ৬০ হাজার লোকের বসবাস। এরুপ একটি অঞ্চলের পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি। আর ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের টিকেট পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বিভিন্ন প্রার্থীরা।

বিভিন্ন ভাবে গুঞ্জন শুনা যায়, স্থানীয় এমপিরদের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং অনেকেই ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে নৌকার মনোনয়ন কিনেছেন “পিঠা ছালাম” নামে পরিচিত আবদুস ছালাম। সে দীর্ঘদিন মিরকাদিম অঞ্চলে বিভিন্ন রাস্তার পাশে বসে শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করতো বলেও জানা যায়। তারপর সৌদিতে চলে যায়। এরপর দেশে ফিরে মেয়র পদে ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারিতে নির্বাচন করেন আ’লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে “দোয়াত-কলম” মার্কা নিয়ে। তবে সেই নির্বাচনে ২০৪৪ ভোট পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তার। এরপর তিনি উধাও। এবার করোনার আগে বিদেশ থেকে আসেন তিনি। তাদের মতো আ’লীগ বিরুধী অতিথি পাখিদের দলে কোন ভাবেই অবস্থান নেই বলেই তাকে নিয়ে আ’লীগ দপ্তরের পাঠানো সকল প্রতিবেদনে  নেতিবাচক প্রভাব পরেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম সরদার জানান, পিঠা ছালাম এই পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ টি রেজিস্ট্রেশন করে বিবাহে করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তিনি অনেকটাই নিন্দনীয়। তারমতো মানুষ যার শিক্ষার লেশমাত্রটুকু নেই, তিনি কিভাবে আ’লীগের নৌকার মনোনয়ন পাবেন। তাছাড়া
আ’লীগের কোন কমিটিতে সদস্য পদ হিসেবেও তার নাম নেই। এদিকে ২০১১ পর থেকে এই পর্যন্ত নির্বাচন ছাড়া তাকে কখনো মাঠময়দানে দেখা যায় না। তাই জনবিচ্ছিন্ন একটি মানুষ কিভাবে জনপ্রতিনিধি হবেন।

এদিকে আরেক প্রার্থী, ব্যবসায়ী ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালাম। স্থানীয় এমপির শলাপরামর্শে তিনিও দৌড়ঝাঁপ করছেন দলের মনোনয়নের জন্য। বিভিন্নভাবে অর্থ ছিটিয়ে শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে আ’লীগের সেন্ট্রাল থেকে কঠোর নির্দেশনা- পূর্বের কোন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে এবছর মনোনয়ন দেওয়া হবেনা। এমতাবস্থায় ২০১৫ সালে আ’লীগের মনোনয়ন চেয়ে তা না পাওয়ায় “মোবাইল” প্রতীক নিয়ে নৌকা প্রার্থীকে ফেইল করানো জন্য নির্বাচন করেন মনসুর আহমেদ কালাম। তবে ওনি কিভাবে নৌকার প্রতীক পাবেন এবার? এমনটাই প্রশ্ন স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে। তাছাড়া ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারী নির্বাচনে তিনি বিএনপির এক প্রার্থী তার শ্যালক মিজানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

তবে সার্বিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন মিরকাদিম পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহীন। তিনি পরপর দুই বার এই পৌরসভায় বিপুলসংখ্যক ভোটে নির্বাচিত মেয়র। প্রথম নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের কোন নিয়ম না থাকলেও বিপুল ভোটে সেইবার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালে আ’লীগের মনোনয়ন পেয়ে আ’লীগ সতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আবারও বিপুল ভোটে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া শত ঘাতপ্রতিঘাত উপেক্ষা করে পৌরসভার সড়কের প্রশস্তিকর কাজ অব্যাহত রাখেন। এবং স্থানীয় বিভিন্ন দখল করা খালগুলো উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এদিকে গত সদর উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আনিসুজ্জামান আনিসকে নির্বাচিত করার জন্য যথেষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন এই পৌর মেয়ের শাহিন। দলীয় অন্তঃকোন্দলের কারনে সেই সময় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করেন শাহিন। এতে বর্তমানে নৌকা প্রতীক পেতে শাহিনের কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, বর্তমানে মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহিন। অন্যান্য প্রার্থীদের চাইতে অনেক এগিয়ে। তিনি বিগত দুই টার্ম বিভিন্ন বাঁধা উপেক্ষা করে অনেক কাজ করেছেন। তবে সেগুলো বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচারের কারনে অনেকটাই ম্লান হয়ে আছে। তাছাড়া তিনি দলীয় বিভিন্ন পোগ্রামে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জাক জমক পূর্ণ ভাবে পালন করেছেন। তিনি চলমান করোনা মহামারির কালে সর্বদাই স্থানীয়দের পাশে থেকেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পৌর সহায়তা ছাড়াও নিজের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য-বস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছেন স্থানীয় হতদরিদ্র ও দুখীদের। আমরা ওনার কাছে কৃতজ্ঞ এই করোনা কালে করোনা পজেটিভ হয়েও মেয়ের শাহিন আমাদের পাশে থেকেছেন। খোঁজ খবর নিয়েছে। তবে অন্যান্য যে প্রার্থীরা আছে ওনারা নির্বাচন এলেই এলাকায় সরব হন। অর্থ ছিটান। দান খয়রাত করেন। আবার নির্বাচন শেষে চলে যান। এই ধরনের অতিথি পাখিদের চাইতে শাহিন অনেক এগিয়ে। ওনারই নৌকার মনোনয়ন পাওয়া উচিত।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোঃ বিল্লাহ হোসেন জানান, আমরা আ’লীগ করে ৩ থেকে ৪ পুরুষ যাবৎ। আমি মিরকাদিম পৌরসভা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছি। মিরকাদিম ইউনিয়ন থেকে পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির খন্দকার মোহাম্মদ রেনু প্রথম চেয়ারম্যান হন। এরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন শহীদুল ইসলাম শাহীন। তিনি এলাকা উন্নয়নের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নেন। আনেকগুলি কাজের অগ্রগতিও হয় ভালো। কিছু কাজ হয়েছে। তবে দলিয় অন্তঃকোন্দল ও স্থানীয় প্রতিপক্ষের কারনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি অনেক কিছু। তিনি বলেন আমাদের এখানে নেতা ফলানোর মতো অনেকেই আছেন তবে প্রকৃতপক্ষে শাহীন ছাড়া কাউকে মাঠে দেখা যায় না। এখানে অনেকেই মেয়র হতে চান। তাদের মধ্যে কেউ বিয়ে বিদেশ নিয়ে সারা বছর ব্যাস্ত থাকেন। তিনি করোনারি আগে এসে ঘোষণা দেন এবার কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। আবার এখন সেই পিঠা ছালাম মেয়র নির্বাচন করবেন। কেউবা ম্যান পাওয়ার ব্যাবসা নিয়ে মত্ত থাকেন সারা বছর। দলীয় কোন পোগ্রামে তাদের অংশগ্রহণ নিছক হাতে গোনা। আবার তারা নির্বাচন এলেই বড় বড় বুলি ছড়ান। নেতাকর্মীদের রাত জেগে কেন্দ্র পাহাড়া দেওয়ার কথা বলেন। যাদের নির্বাচনের আগেই এতো ভয়। তারা কিভাবে নির্বাচনে জয়ী হবেন?

সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এবার নৌকার মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন পূর্বের পৌর মেয়ের শহীদুল ইসলাম শাহীন। তার পারিবারিক পরিচিত ও বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে দেখা যায় সে আ’লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। এবং স্থানীয় ভাবে বিএনপির ঘাটিতে আ’লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে সশরীরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে বিভিন্ন সময় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্তও হয়েছেন। তারপর এক পাও পিছায় নি তিনি।#

মুন্সীগঞ্জ
১০.০১.২০২১


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com