সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে ভোলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন আবুল খায়ের স্টিলের উদ্যোগে টঙ্গীবাড়ী’তে গৃহনির্মাণ কর্মশালা টঙ্গীবাড়ীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত সিরাজদিখানে’র ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত  মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রাস্তার উপর টানা অবৈধ ড্রেজারের পাইপ অপসারণ ধলেশ্বরী নদী’র তীর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নৌ পুলিশের শ্রীনগরে বিধবা এক নারীর সাথে ইউনিয়ন বিএনপি নেতার অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস শ্রীনগরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড  মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-টচ্রগ্রাম মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাককে বাসের ধাক্কা, আহত-১৩  গজারিয়ায় মিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত!  সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিট পুলিশিং সভা
নোটিশ

মুন্সীগঞ্জ সংবাদ - প্রকাশক ও সম্পাদক - মোহাম্মদ আলী রুবেল    +৯৭১৫৫৭৭৪৯৬৬৮ - সত্যের পথে নির্ভীক মোরা - আমরা সদাসর্বদা সত্য প্রচার করি

 

মুন্সিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,মুন্সিগঞ্জ মহকুমা বিএলএফের প্রধান ছিলেন আনিসুজ্জামান আনিস

মুন্সীগঞ্জ সংবাদ ডেক্স / ৫০৭ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

মোহাম্মদ আলি রুবেল : ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ থেকেই মুন্সীগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধারা পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ করতে থাকে।মুন্সীরহাট, কেওয়ার, টঙ্গীবাড়ি, আব্দুল্লাহাপুর, লৌহজং, শ্রীনগর, গজারিয়া ও সিরাজদিখান প্রভৃতি স্থানে যুদ্ধ করেছে মুক্তি যোদ্ধারা। কখনো স্থল যুদ্ধ আবার কখনো নৌযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে মুন্সীগঞ্জ মহকুমা যুদ্ধকালিন সময়ে দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। মুন্সীগঞ্জ, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ি নিয়ে একটি এরিয়া শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও লৌহজং নিয়ে একটি যুদ্ধ এরিয়া। প্রথম অংশের এরিয়া কমান্ডার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। দ্বিতীয় অংশের যুদ্ধকালিন কমান্ডার ছিলেন বীর মুক্তি যোদ্ধা শহিদুল আলম সাইদ। আর মুন্সীগঞ্জ মহকুমার বিএলএফ প্রধান ছিলেন আনিসউজ্জামান আনিস।

মুক্তিযুদ্ধের বহু মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘ নয় মাসে বিভিন্ন সময়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন। এরা হলেন মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ্, গোলাম মর্তুজা চৌধুরী রাজা, এনায়েত উল্লাহ খান সেন্টু, মিনআল ঢালী, মোহাম্মদ হানিফ মোল্লা, আনোয়ার হোসেন অনু, মোশারফ হোসেন সজল, আবু হানিফ, শামসুজ্জামান মানিক, মোফাজ্জল হক, কাজী আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আশা, মোহাম্মদ ইয়াদ আলী দেওয়ান, খালেকুজ্জামান খোকা, আবুল কাশেম তারা মিয়া, টঙ্গীবাড়ির সামসুদ্দিন, বজলুর রহমান সেন্টু, আব্দুল হক, মহিউদ্দিন, মতিউল ইসলাম হিরু, মোহাম্মদ মাসুম, মোহাম্মদ খালেদ।

২৭ মার্চ ১৯৭১ সালে মুন্সীগঞ্জ ট্রেজারী লুট হয়। ট্রেজারীর চারটি তালা ভেঙে মুন্সীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ৩০০টি অস্ত্র লুট করে। এতে নেতৃত্ব দেন আনিসউজ্জামান আনিস, খালেকুজ্জামান খোকা, মোহাম্মদ হোসেন বাবুল।

মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, কে, কে সরকারি ইনস্টিটিউট ও সোনালী ব্যাংকে ছিল পাক সেনাদের ক্যাম্প। অন্য দিকে মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা রামপালের ধলাগাঁও, সুখবাসপুর ও বাঘিয়া এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করেন। সেখান থেকে তারা প্রতিরোধ ও আক্রমণ করা হয় সেদিন ছিল শব-ই-বরাত। রামপাল হাইস্কুল মাঠে সকল কমান্ডার ও মুক্তি যোদ্ধারা বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসউজ্জামান আনিস এর নেতৃত্ত্বে মুন্সীগঞ্জ থানা আক্রমণ করেন। রামপাল মাঠে একজন মাওলানা মুক্তি যোদ্ধাদের দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে ১০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানা আক্রমণ করেন। অগ্রগামী গ্রুপ অজিত মোক্তারের বাড়ি থেকে একটি ফায়ার করে। ফায়ারটি করেন মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। এর পর ১০টি গ্রুপ একসাথে ১০টি করে মোট ১০০টি ফায়ার করে। পাক বাহিনীর বা পুলিশ কোন প্রতিরোধ করেনি। কিছুক্ষণ বিরতী দিয়ে শ্লোগান দেয় মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর ২টি করে ১০ গ্রুপ হতে এক সাথে ফায়ার করা হয়। থানার কাছে গিয়ে মুক্তি যোদ্ধারা পুলিশকে সারেন্ডার করার কথা বলে। মুন্সীগঞ্জ থানায় থাকা ১৭ জন পুলিশ আত্ম সমর্পণ করে। এ ১৭ জন পুলিশের মধ্যে ৩ জন ছিল মুক্তি যোদ্ধাদের ইন্ফরমার। মুন্সীগঞ্জ থানা দখলের ৪৫ মিনিটের মধ্যে ধলেশ্বরী নদীতে টহলরত পাক বাহিনী সেল নিক্ষেপ করে, যার একটি শিলমন্দি মৃধাবাড়ির পাশে, অন্যটি রন্ছ মাদবর বাড়ি পাশে আঘাত হানে। অবশেষে মুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ। এ সংবাদটি বিবিসেতে প্রেরণ করেন সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন। এছাড়াও উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান-বীর প্রতীক, বি এল এফ ঢাকার প্রধান মোঃ মহিউদ্দিন। মেহেরপুরে স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী এসপি (অব) মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রম।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর Atlas of Bangladesh liberation War 1971 গ্রন্থে মুন্সীগঞ্জ জেলায় ১৩ টি যুদ্ধক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই যুদ্ধক্ষেত্র গুলো হলো- ১. মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ২. মুক্তারপুর ৩. মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ৪. পুরান বাউসিয়া ৫. চর বাউসিয়া ৬. নয়া নগর ৭. নয়া নগর (দ্বিতীয় দফা) ৮. গোসাইর চর ৯. ভাটের চর ১০. মুন্সীগঞ্জ থানা ১১. লৌহজং ১২. সিরাজদিখানের সৈয়দপুর ১৩. সিরাজদিখান থানা । এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ সদরে আরো দুটি যুদ্ধক্ষেত্র রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র দুটো হলো- রতনপুর যুদ্ধক্ষেত্র ও মুন্সীরহাট যুদ্ধক্ষেত্র। মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুরুজ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, রতনপুর যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে মুক্তিবাহিনীরা পরাজিত করে। এ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক সরকার নেতৃত্ব দেন। প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী হয় রতনপুর য্দ্ধু। এ যুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে। সময়টা ছিলো ভোর রাত। মুন্সীরহাট যুদ্ধ হয় সকাল দশটায়। মুন্সীরহাটে অবস্থান নেয় পাক সেনাবাহিনী আর খালের দক্ষিণ পাড় চর কেওয়ারে বাইদ্দাবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয় মুক্তিবাহিনীরা। মর্টার সেল নিক্ষেপ করে পাক বাহিনী। রাইফেল এর গুলি নিক্ষেপ করে মুক্তিবাহিনীরা। প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী হয় এই য্দ্ধু। যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী জয় লাভ করে। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে কেওয়ার গ্রামের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন আল ঢালী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেটাসোর্স অনুযায়ী জেলায় ছয়টি বদ্ধভূমি বা সমাধী ভূমি রয়েছে। বদ্ধভূমি গুলো হলো-১. কেওয়ার সাতানিখিল ২. হরগঙ্গা কলেজ হোস্টেল ৩. হরগঙ্গা কলেজ সংলগ্ন পাঁচঘড়িয়াকান্দি ৪. চর বাউসিয়া ৫. নয়া নগর ৬. সৈয়দপুর। এছাড়াও আব্দুল্লাপুরের পালবাড়িতে একটি বদ্ধভুমি রয়েছে। জেলায় ৬৭ টি শহীদ পরিবার রয়েছে। শাখাওয়াত হোসেন নিলু জানান, ১১ ডিসেম্বর সকালে এড. শহীদুলম সাঈদ গ্রুপের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধারা সকালে বেলা ১১ টার সময় তিনি ও তার সহমুক্তিযোদ্ধারা মুন্সীগঞ্জ শহরে অবস্থান নেয়। তারিখটি ছিলো ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১। ২৪৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধা নয় মাস যুদ্ধ করে ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে মুন্সীগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে।১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাক হানাদার মুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ। অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অন্যান্য অংশের মতো মুন্সীগঞ্জ মুক্ত স্বাধীন হয়।জাতি তাদের শ্রদ্ধায় স্বরণ করবে আজীবন।

তথ্য: Atlas of Bangladesh liberation War 1971

বীর মুুক্তিযোদ্ধা এম.এ. কাদের মোল্লা-সদর থানার কমন্ডার, মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট।
বীর মুুক্তিযোদ্ধা শহীদ হোসেন- ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার, সদর থানার কমন্ডার, মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট।
বীর মুুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইয়াদ আলি দেওয়ান,মোঃ আশা।

 

 


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com